খুতবা কাকে বলে ?

প্রশ্নঃখুতবা কাকে বলে ?

উত্তরঃ খুতবা হলো এক প্রকার ভাষণ ,যা মুসলিমরা জুম্মার নামাজের পূর্বে রাষ্ট্রের নাগরিকদের উদ্দেশ্য করে প্রদান করে থাকে। মুসলিমরা দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং শুক্রবার বিশেষ নামাজ আদায় করে এই নামাজ কে বলা হয় জুম্মার নামাজ বা সাপ্তাহিক বিশেষ নামাজ। খুতবা হলো আরবি শব্দ যার বাংলা হলো ভাষণ। জুম্মার নামাজের পূর্বে ইমাম সাহেব সকল মুসুল্লিদের উদ্দেশ্য করে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। যেমন ,রাজনৈতিক ,সামাজিক,অর্থনৈতিক ,ধর্মীয় ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোকপাত করে থাকেন। সর্ব প্রথম হজরত মুহাম্মদ (সাঃ ) খুতবা শুরু করেন। খুৎবার অনেক ফজিলত আছে। খুৎবার জন্য ২ রাকাত নামাজ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ১২ চাঁদের নামে  খুতবা দেয়া হয়। খুতবা দেয়ার সময় মিম্বরের উঠে খুতবা দিতে হয়। 

খুতবা কী ? খুতবা কেন দেওয়া হয় ?খুতবা কে দেন ?খুতবা কখন দেয়া হয় ?

খুতবা আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো ভাষণ: বক্তৃতা, প্রস্তাবনা, ঘোষণা, সম্বোধন, উপস্থাপনা ইত্যাদি। খুতবা হলো জুমার নামাজের আগে, উভয় ঈদের নামাজের পরে, হজে আরাফার দিনে মসজিদে নামিরাতে, বিয়ের অনুষ্ঠানে ও বিভিন্ন ইসলামি অনুষ্ঠানে খলিফার প্রতিনিধি, দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা ইমাম ও খতিব কর্তৃক প্রদত্ত প্রাসঙ্গিক বক্তৃতা বা ভাষণ। যিনি খুতবা দেন তাঁকে ‘খতিব’ বলা হয়। সাধারণত যেসব মসজিদে আলাদা খতিব নেই, সেখানে পেশ-ইমাম বা প্রধান ইমাম অথবা ইমাম ও সানি ইমাম (সহকারী ইমাম) খুতবা প্রদান করেন এবং জুমার ও ঈদের নামাজে নেতৃত্ব দেন। জুমার খুতবা নামাজের আগে এবং ঈদের নামাজসহ অন্যান্য নামাজে খুতবা পরে দেওয়া হয়। ঈদ ও জুমার খুতবা ওয়াজিব, অন্যান্য খুতবা সুন্নত। খুতবার মধ্যে যেসব বিষয় থাকা সুন্নত হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) দ্বারা শুরু করা, ছানাখানি (গুণগান) করা, শাহাদাতাঈন (তওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য) পাঠ করা, দরুদ শরিফ পড়া, কোরআনে করিমের প্রাসঙ্গিক আয়াত তিলাওয়াত করা, সংশ্লিষ্ট হাদিস পাঠ করা, প্রয়োজনীয় মাসআলা বর্ণনা করা, ওয়াজ-নসিহত বয়ান করা, উপদেশ দেওয়া, সৎকর্মে উদ্বুদ্ধকরণ ও মন্দ কাজ থেকে নিরুৎসাহিত করা, মুসলমানদের জন্য দোয়া করা। খতিবের করণীয় সুন্নত অজু অবস্থায় থাকা (পবিত্র থাকা)। জুমার খুতবার প্রারম্ভে (মিম্বারে) বসা। সব খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়া। জুমার খুতবা মিম্বারে দাঁড়িয়ে দেওয়া। মুসল্লিদের (শ্রোতা-দর্শকদের) দিকে ফিরে খুতবা দেওয়া। খুতবা আরম্ভের আগে মনে মনে ‘আউজুবিল্লাহ’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ পড়া। খুতবা আরবি ভাষায় হওয়া। সশব্দে (শ্রোতা-দর্শক শুনতে পায় এমনভাবে) খুতবা পরিবেশন করা। উভয় খুতবা সংক্ষিপ্ত হওয়া। উভয় খুতবা (প্রতিটি) ‘তিওয়ালে মুফাছ্ছল’ (সুরা হুজুরাত থেকে সুরা বুরুজ পর্যন্ত) সুরার চেয়ে দীর্ঘ না হওয়া। দুই খুতবার মাঝে বসা। ঈদের খুতবায় প্রারম্ভে না বসা। ঈদের প্রথম খুতবার শুরুতে ৯ বার; ঈদের দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে ৭ বার এবং শেষে ১৪ বার তাকবির বলা। খুতবায় যা যা থাকা উচিত পূর্বসূত্র (বিগত আলোচনার সারাংশ ও আজকের বিষয়ের সঙ্গে পূর্বাপর সম্পর্ক)। আজকের বিষয়: প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজনীয়তা। গত সপ্তাহের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি পর্যালোচনা। আগামী সপ্তাহের করণীয় আমল আলোচনা। (চাঁদের মাসের আমল)। সমকালীন প্রসঙ্গ ও দিকনির্দেশনা। মধ্যপন্থা অবলম্বন। ঐক্যের প্রচেষ্টা ও অনৈক্য দূর করা। মিম্বার প্রসঙ্গ রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমত একটি খেজুরগাছের খুঁটির সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। মিম্বার তৈরি হওয়ার পর তিনি তার ওপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। ওই মিম্বারে তিনটি তাক ছিল। নবীজি (সা.) তৃতীয় তাকে দাঁড়াতেন ও বসতেন। নবীজি (সা.)-এর ওফাতের পর হজরত আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতের সময় তিনি দ্বিতীয় তাকে দাঁড়াতেন। হজরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতের সময় তিনি তৃতীয় তাকে দাঁড়াতেন। অতঃপর হজরত উসমান (রা.)-এর খিলাফতের সময় তিনি দ্বিতীয় তাকে দাঁড়াতেন এবং এ প্রথাই বর্তমানে প্রচলিত। তবে প্রয়োজনে মিম্বারের তাকের সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে এবং সুবিধানুযায়ী খতিব যেকোনো তাকে দাঁড়াতে পারেন।

খুতবা

"লেখক মুহাম্মদ খায়রুল বাশার"

কোন মন্তব্য নেই

enot-poloskun থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.